মেহেরপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন নারী ব্লাকমেইলারসহ ৫ জন আটক
টপ নিউজ আইন-আদালত মেহেরপুর অপরাধ

মেহেরপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন নারী ব্লাকমেইলারসহ ৫ জন আটক

সবার সংবাদ ডেস্ক :

মেহেরপুরে গোপন ক্যামেরায় আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে ভাইরাল করার হুমকী প্রদানের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তিন নারী ব্লাকমেইলার সহ পাঁচজনকে আটক করেছে জেলা ডিবি ও সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে মেহেরপুর শহর থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকৃতরা হলো-চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটদাহ গ্রামের নাজমুল হোসেন খান এর মেয়ে নাজনিন খান প্রিয়া, একই উপজেলার চারুলিয়া গ্রামের রাসেল আহমেদের মেয়ে বিলকিস রাবেয়া টুম্পা, মেহেরপুর শহরের ঘোষপাড়ার শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা ইয়াসমিন রুমা, দুলাল আলির ছেলে শাহাজাহান আলী ও আখের আলীর ছেলে হাসান আলী।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান-নাজনিন খান প্রিয়া মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের মোনায়ার হোসেনের আপত্তিকর ছবি ধারন করে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। অপরদিকে বিলকিস রাবেয়া টুম্পা সহ ৪ জন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলি হোসেনকে টুম্পার বাড়িতে আটকিয়ে রেখে  ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে টুম্পার বাড়ি থেকে আলি হোসেনকে উদ্ধার সহ আসামী টুম্পা সহ ৫ জনকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১৭ হাজার টাকা ও ৫টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের আজ বুধবার বিকাল ৫টায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এভাবে মেহেরপুরে নারী চক্রের দৌরাত্বের শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। বিভিন্ন জনের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে ভিডিও এবং ছবি ধারণ করে তাদের ফাঁদে ফেলছে এই চক্র। একপর্যায়ে প্রতারণা, হুমকী এবং সেই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। মেহেরপুর এবং চুয়াডাঙ্গা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে এমন চক্রের তিন নারী সদস্য সহ ৫জনকে আটক করেছে ।

বাদী আমঝুপি বাজারপাড়ার মনোয়ার হোসেনের অভিযোগ- সে এবং আসামী নাজনীন খান প্রিয়া স্থানীয় মানব উন্নয়ন কেন্দ্র, মউক এনজিও তে চাকুরী করতো। সহকর্মী হিসেবে প্রিয়া একদিন তাকে অফিসের ছাদে ডাকলে সে সরল বিশ্বাসে অফিসের ছাদে যায়। সেখানে প্রিয়া একত্রে ছবি তুলতে চাইলে প্রিয়া তাকে জড়িয়ে কয়েকটি ছবি তোলে। পরবর্তীতে প্রিয়া চাকুরীচ্যুত হলে প্রিয়া তার কাছে ২লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। অন্যথায় ছবি স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার হুমকী দেয়। পারিবারিক মান সম্মানের ভয়ে একপর্যায়ে মেহেরপুর শহরের কলেজ মোড় ইয়ারুলের হোটেলের কাছে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্রিয়াকে ২০ হাজার টাকা দিই। পরে এভাবে আরও টাকা চাইলে অন্যথায় ছবি ভাইরাল করার হুমকী অব্যহতভাবে দিলে ২২ নভেম্বর প্রিয়ার বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলা নং-৩২। এই মামলায় প্রিয়াকে শহরের খোকন ষ্টুডিওর নীচতলায় ভাড়াবাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।

অপর মামলায় বাদী চুয়াডাঙ্গার উম্মে রুমানা সিদ্দীকার অভিযোগ- মেহেরপুর শহরের ঘোষপাড়ার রুমানা ইয়াসমীন রুমা ও তার দুই সহযোগীরা বাদীর স্বামী স্বপন আলী ব্যবসায়িক কাজে মেহেরপুর গেলে তাকে ফাঁদে ফেলে রুমার বাড়িতে আটকিয়ে রাখে। পরে রুমা মুক্তিপণ বাবদ দ্রুত ৩০ হাজার টাকা মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বলে। অন্যথায় স্বামীকে হত্যা করার হুমকী দেয়। ভীত হয়ে রুমার বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশ মেহেরপুর ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুমা, টুম্পা সহ সহযোগী ৪ জনকে আটক করে এবং স্বপন আলীকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ২৩ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলা নং-৩৩।

পুলিশ পৃথক দুই মামলায় নারী প্রতারক চক্রের তিন নারী সদস্য সহ ৫জনকে আটক করে বুধবার আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।