সবার সংবাদ ডেস্ক:
উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে বিপাকে ছিল দেশের সাধারণ মানুষ। সেই বিপাক আরও বাড়িয়ে দিলো জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে দাম বাড়তে থাকায় দেশের বাজারে সমন্বয় করা হয়েছে জ্বালানির দাম। এই বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে জ্বালানি তেলের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি তেল এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গতকাল শনিবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা কার্যকর হয় মধ্যরাত থেকেই। বাড়ানো হয়েছে অকেটন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম। এছাড়া আজ বাড়ানো হয়েছে এলপিজির দামও। এতে সাধারণ মানুষের কপালে নতুন করে চিন্তার ভাজ পড়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে নতুন করে বাস, লঞ্চ ও ট্রাকভাড়া বাড়বে। ইতিমধ্যে বাস ও লঞ্চ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেট কারের মালিক ও মোটরসাইকেলের চালকদের খরচও বাড়বে। ব্যয় বাড়বে কৃষি খাতে, যা বাড়িয়ে দেবে পণ্যের দাম। এতে একদিকে সংসারের খরচ বাড়বে, অন্যদিকে জীবিকা পরিচালনার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের জীবন আরও চাপে ফেলবে।
নারিন্দা কাঁচা বাজারের মদের গলিতে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বসবাস করেন জামাল মিয়া। পেশায় তিনি একজন রিকশাচালক। তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন। আক্ষেপ করে জামিল মিয়া বলেন, “আমরা দিন এনে দিন খাই, তাতেই কষ্টে সংসার চলে। এর ওপর তেলের দাম বেড়েছে, এতে সবকিছুরই দাম বাড়বে। আমাদের মতো নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাপন আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।”
সদরঘাটে ট্রলার চালান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এখন নতুন অনেকে ট্রলার চালায়, এ জন্য পারাপারের জন্য আগের মতো যাত্রী পাওয়া যায় না। এর ওপর আবার তেলের দাম বেড়েছে। এমনিতেই যে টাকা আয় করি, তা প্রতিদিনই শেষ হয়ে যায়। শুধু তেলের দাম বাড়লেও হতো, কিন্তু তেলের দাম বাড়ার ফলে নিত্যপণ্যের দামও বাড়বে। এমন অনেক দিন যায় যে ঠিকঠাক বাজার করতে পারি না। আমাদের জীবনটাই কষ্টের। কেউ আমাদের কষ্ট বোঝে না।”
কেরোসিন তেল দিয়ে রান্না করা রাহেলা বেগম বলেন, “তেলের দাম বাড়ায় সংসারের খরচ আরও বেড়ে যাবে। প্রতিদিনের রান্নার জন্য কেরোসিনের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু, দাম বাড়ার ফলে আগের মতো চাহিদামতো তেল কেনা কঠিন হয়ে যাবে। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচও কমিয়ে আনতে হতে পারে।”
এ বিষয়ে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এভাবে এত দাম বাড়ানো মোটেও যৌক্তিক হয়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে তিন মাস সময় লেগে যায়। প্রতিদিনের তেল তো আর বিপিসি প্রতিদিন কিনে আনে না। একইভাবে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়েও দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম কমে তখন তারা কিন্তু সহজে দাম কমান না। লোকসান পোষানোর কথা বলতে থাকেন। এটা এক ধরনের লুণ্ঠনমূলক আচরণ।”
সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোভিডের কারণে এমনিতেই দেশের ৭৭ ভাগ মানুষের আয় কমে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই কষ্ট হচ্ছে। আর এখন তো তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ব্যয়, পণ্যের ব্যয় সব বাড়বে এবং এই বৃদ্ধি সমস্ত উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করবে। পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধিসহ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার জনগণের স্বার্থ একেবারেই দেখলো না।”







