গাংনীতে সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ
টপ নিউজ মেহেরপুর

গাংনীতে সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

সবার সংবাদ ডেস্ক:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতায় পুরোনো সড়ক সংস্কার কাজে সিডিউল বহির্ভূতভাবে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাস্তা সংস্কার কাজে শুরু থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া, ইট-বালু ব্যবহার করা হয়েছে।

এমন অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা-রংমহল সড়কে। এ সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। আবার কাজ শুরুর দেড় বছর অতিক্রম করলেও কার্পেটিং কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় এলাকাবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টির হয়েছে।

জানা যায়, সরকারের অবকাঠামো পূর্নবাসন (ঈঅঋউজওজচ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গাংনী উপজেলা কার্যালয়ের তত্ত¡াবধানে চলছে এই নির্মাণ কাজ। কাজ পেয়েছে কুষ্টিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এহসানুল হক ট্রেডার্স। তবে কাজটি করছেন আশিকুর রহমান আকাশ নামের এক ব্যক্তি।

এলজিইডি গাংনী উপজেলা কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে  ১ কোটি ৮৭ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউপি থেকে কাজীপুর বাজার-রাধাগোবিন্দপুর ধলা-রংমহল সড়কের ৫ হাজার ৭৩ মিটার পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। এ রাস্তা সংস্কারে নিম্নমানের ইট, ইটের খোয়া ব্যবহার করে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে থাকা গাইড ওয়ালগুলোও একেবারে নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের আব্দুল মালেক, আবুল কালাম আজাদ, নাসির উদ্দিন, সেন্টু রহমান কাটু, রাজন ও রনি-সহ এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ কয়েক বছরের ভোগান্তির পরে আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটির কাজ শুরু হয়। তবে কাজ শুরুর দেড় বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কার্পেটিং কাজের কোন খবর নেই। আবার কাজের শুরু থেকেই তদারকি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তা সংস্কার কাজে বিভিন্ন অনিয়ম করে চলেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা সড়কের কাজে বাধা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় মৌখিকভাবে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। এরপরও নিম্নমানের ইট, বালু ও নষ্ট হওয়া সড়কের পুরোনো ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তা তৈরি করে বর্তমানে পিচ ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তত করা হয়েছে। এ কাজ সমাপ্ত হলে ৬ মাসও টিকবে না বলে দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সড়কে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও সড়কের পাশের গাইড ওয়াল নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও রাস্তা থেকে ইটের খোয়া উঠে যেতেও দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে কার্পেটিং কাজ না হওয়ায় ধুলাবালিতে রাস্তা একাকার হয়ে গিয়েছে। যার ফলে সড়কে চলাচলেও এলাকাবাসীকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এবিষয়ে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এহসানুল হকের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, তিনার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঠিকাদারকে ভাল সামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য সড়কে কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন হতে দেরি হচ্ছে। তাদের কে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক সাথে অনেক গুলো কাজ পাওয়ার ফলে রাস্তায় কার্পেটিং কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে।