সবার সংবাদ প্রতিবেদক:
মেহেরপুরের গাংনীর মুন্দা গ্রামে মাটির নীচে পুতে রাখা স্বর্ণ চুরির অভিযোগে আলাল শেখ (২২) নামে এক টাইলস মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত টাইলস মিস্ত্রিকে আলালকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আলালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার অপর পলাতক আসামী মোমিন খানের শ্বশুর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার কলেজপাড়া থেকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাংনী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আলাল শেখ কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামের আরজান শেখের ছেলে। তাকে মেহেরপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মুন্দা গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহীন কুয়েত প্রবাসী। বাড়িতে থাকেন তার বৃদ্ধা মা নার্গিস বানু ও তার দুই বোন। নিরাপত্তার স্বার্থে নার্গিস বানু তার এবং দুই মেয়ের ব্যবহৃত সোনার গয়না, নেকলেস, চুড়ি, কানের দুল, চেইন, আংটিসহ মোট ১১ ভরি ১৪ আনা ওজনের অলংকার একটি প্লাস্টিকের কৌটায় ভরে পলিথিনে মুড়িয়ে ঘরের সিঁড়ির পাশে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৯ লক্ষ ৬ হাজার ২৫০ টাকা।
সম্প্রতি বাড়িতে ৫ জন টাইল্স মিস্ত্রি কাজ শুরু করেন। ৫ জুলাই বিকেলে মিস্ত্রিরা চলে যাওয়ার পর নার্গিস বানু দেখেন সিঁড়ির পাশে মাটি খুড়ে গর্ত করা এবং মাটির নিচে রাখা গয়নার কৌটা নেই। বিষয়টি কুয়েতে থাকা ছেলে শাহীনকে জানালে তিনি বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেন। ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটের দিকে কাজ করার সময় একজন মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে প্লাস্টিকের কৌটাটি তুলে অন্য এক মিস্ত্রির হাতে দেয় এবং তারা পরস্পরের মধ্যে ইশারা-ইঙ্গিতে কথা বলে স্বর্ণের কৌটাটি নিয়ে বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাসিন্দা মোমিন খান ও আলালকে শনাক্ত করেন।
এ ব্যাপারে নার্গিস বানু গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গাংনী থানার মামলা নং ১১, তারিখ-০৬/০৭/২০২৬ খ্রি. ধারা- ৩৭৯ পেনাল কোড।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সাথে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। অন্য আসামী মোমিন খানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







