বিএনপির নীতিই হচ্ছে দুর্নীতি,তারা শান্তি চাই না-জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
টপ নিউজ মেহেরপুর

বিএনপির নীতিই হচ্ছে দুর্নীতি,তারা শান্তি চাই না-জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

সবার সংবাদ ডেস্ক:

বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মেহেরপুরে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ

বিএনপি-জামায়াতে নৈরাজ্যে ও সহিংসতার প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে মেহেরপুর-১ আসনের এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন- এক সময় নির্বাচন এলেই বিএনপির প্রচার ছিল আওয়ামী লীগের ভোট দিলে বাংলাদেশ হিন্দুস্থান হবে, মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির হবে, নারীরা বাইরে বেরোতে পারবে না, মসজিদে মাইক বাজবে না। বিএনপির সেই সমস্ত মিথ্যাচার আজ ভুল প্রমানিত হয়েছে। বিএনপির নীতিই হচ্ছে দুনীতি। তারা দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। জনগণের অর্থ লুট করতে হাওয়া ভবন হয়েছিল। খাম্বা আছে বিদ্যুৎ নেই, সার তৈল নেই, কৃষকের ফসলের নায্য মূল্য নেই, মানুষের নিরাপত্তা নেই, নারীর স্বাধীনতা নেই, দোকান আছে ব্যবসা নেই, কারখানা আছে বাণিজ্য নেই। এমনই নেই আর নৈরাজ্যের শাসন ছিল বিএনপির শাসনামল।

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে সমাবেশে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন আরও বলেন- আজ দেশে শান্তি বিরাজ করছে। সারাদেশ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। কৃষককে সার তৈল নিতে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। জীবন দিতে হয় না। কৃষক ফসলের নায্য মূল্য পাচ্ছে। খুন খারাপি নৈরাজ্য নেই। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে, ঘুরতে পারছে। আজ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল বলেই বিএনপির নেতাকর্মীরাও শান্তিতে ঘুমাতে পারছে। তারাও খেয়ে পরে ভাল আছে। বিএনপি’র সন্তানরাও ভাল স্কুলে পড়তে পারছে, বছরের প্রথম মাসে বিনামূল্যে বই পাচ্ছে, বিএনপির নারীরা অনেকেই বয়স্ক ভাতা পাচ্ছে। বিএনপির কাছে জনগনের শান্তি সহ্য হয়না। তাই আবার দেশকে অশান্ত করতে চাই।

বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে আজ মর্যাদাশীল একটা দেশ। উন্নয়নশীল দেশ। মধ্যম আয়ের দেশ। বিদেশীরা আজ বাংলাদেশের উন্নয়নের চলমান গতি দেখে অবাক হয়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসন ব্যবস্থার প্রশংসা করে। এগুলো বিএনপি’র সহ্য হয় না। বাংলাদেশের উন্নয়নে বিএনপি জ্বলেপুড়ে মরছে। বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থায় সারা বিশ্বে যেখানে জ্বালানী তৈল, খাদ্যের দাম হুহু করে বেড়েছে। সেখানে বাংলাদেশে অবস্থা যে কোন দেশের তুলনায় অনেক ভাল আছে। বাংলাদেশ আজ ভিক্ষুকের দেশ নয়, দানশীল দেশ। বাংলাদেশের মানুষের চেহারায় আজ পরিবর্তন এসেছে, শরীরে শক্তি এসেছে। কারণ মানুষ ভাল আছে, শান্তিতে আছে। আওয়ামী লীগ মাঠের দল। মাঠে থাকবে। মানুষের সাথে থাকবে। মানুষকে নিয়ে বিএনপিকে প্রতিহত করবে। নির্বাচন পর্যন্ত মানুষকে নিয়ে বিএনপির অপপ্রচার ও দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মখলেছুর রহমান খোকন এর সঞ্চালনায় সমাবেশে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল খালেক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, সরকারী আইন কর্মকর্তা (পিপি) পল্লব ভট্টাচার্য্য, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম শাহিন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন বুলবুল, সাধারন সম্পাদক খ.ম ইমতিয়াজ বিন হারুন জুয়েল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম, বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আযুব হোসেন, পিরোজপুর আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, আমদাহ ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম, কাথুলী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা, তেতুঁবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা, শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ, মোনাখালি ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মফিজ সহ অনেক ইউপি চেয়ারম্যানগণ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

মেহেরপুর শহরের শামসুজ্জোহা পার্কে অনুষ্টিত এই শান্তি সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন গ্রাম এবং শহর থেকে শত শত মানুষ দুপুর ৩টার সময় সমাবেশস্থলে গিয়ে সমবেত হয। মানুষের পদভারে ভরে যায় পার্ক। বিকেল সাড়ে ৫টায় শেষ হয় শান্তি সমাবেশ।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি আরও বলেছেন- বিএনপি ব্যর্থ রাষ্ট্র করার জন্য, জঙ্গিবাদ করার জন্য, হামলা করার জন্য, লুটপাট করার জন্য তারা মানুষকে যে কষ্টে রেখেছিল সেই কষ্টের জন্য মানুষ তাদেরকে ভোট দেয়নি। বিএনপি ৩শ আসনের মধ্যে মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনে।

তিনি বলেন, অবাক কান্ড এই বিএনপি'র জন্ম কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে হয়নি। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে বসে এই বিএনপি তৈরি করেছিল। সেজন্য বিএনপি'র জন্ম বৈধভাবে নয় গণতান্ত্রিকভাবে নয়, বিএনপি'র জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে। যার কারনে বিএনপি একটি অবৈধ সংগঠন।

আর আওয়ামী লীগ তৈরি হয়েছে মাটি ও মানুষের দল হিসেবে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য, এদেশের মানুষকে সুখে শান্তিতে রাখার জন্য, আমরা যাতে মর্যাদার জায়গায় যেতে পারি সেজন্য, প্রত্যেকটা মানুষের ঘর থাকে, প্রত্যেকটা মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থা থাকে, বাঙালিরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সেই আশায়।

ফরহাদ হোসেন আরও বলেন-২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায় সরকার এসে দেখলো বিএনপি ১কোটি ২৩ লক্ষ ভুয়া ভোটার তৈরি করেছে। যারা ভোটার হয়নি তাদেরকে ভোটার বানিয়েছে, যে সমস্ত লোক মারা গেছে তাদের কেউ ভোটার বানিয়েছে, তারা ভোটার বানিয়েছে চুরি করে ভোটে জিতবে সেই জন্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি ১৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপি অংশগ্রহণ করল না। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিভিন্ন স্কুলে ভোট কেন্দ্রে প্রায় ৬শ টা স্কুল সেদিন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিলো।