সবার সংবাদ ডেস্ক:
সংশোধিত সরকারি চাকরি আইনের বিল সংসদে পাস করা হয়েছে। সংশোধনীতে কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা বা কর্মে ইস্তফা না দিয়ে অনুপস্থিত থাকাকে ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো কঠোর দণ্ডের বিধান রয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং কর্মস্থলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ২০১৮ সালের ‘সরকারি চাকরি আইন’ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হয়। উত্থাপনের পর বিলটি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রীর পক্ষে সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
বিলে মূল আইনের ধারা ৩৭-এর পর ‘৩৭ক’ নামে একটি নতুন ধারা সন্নিবেশ করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মচারী যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেন বা সরকারের কোনও পরিপত্র/নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা দেন, যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে কর্মে অনুপস্থিত থাকেন বা কাজ থেকে বিরত থাকেন, অন্য কোনও কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেন তবে তা ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিলে এই ধরনের অসদাচরণের জন্য তিনটি প্রধান দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেগুলো হলো, নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং চাকরি হইতে বরখাস্ত।
শৃঙ্খলার স্বার্থে এই আইনের অধীনে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে নতুন বিলে। বিল অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি থাকলে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্ত কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তবে, বিশেষ প্রয়োজনে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও সাতদিন বাড়ানো যাবে।
তদন্ত কমিটি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়, তবে একে সদস্যদের ‘অদক্ষতা’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারি কর্মচারী বাতায়নে এবং ডোসিয়ারে রেকর্ড করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে, রাষ্ট্রপতির দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে কেবল রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করা যাবে।
বিলের উদ্দেশ্যে ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আনুগত্য প্রতিষ্ঠা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করার লক্ষ্যে এই আইনটি আনা হয়েছে। এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০২৫ সালে জারি করা দুটি পূর্ববর্তী অধ্যাদেশকে রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি কাঠামো দেওয়া হলো।







