শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই দলের শেষ সিদ্ধান্ত- কাজী জাফর উল্লাহ
টপ নিউজ মেহেরপুর

শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই দলের শেষ সিদ্ধান্ত- কাজী জাফর উল্লাহ

সবার সংবাদ ডেস্ক:

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে মেহেরপুরের মুজিবনগরে অনুষ্টিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াস সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেছেন, দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। আপনি চেয়ারে আছেন বলে মনোনয়ন পাবেন এমন না। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। সামনে অনেক ষড়যন্ত্র আসছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হবে। দলকে ঐক্যবদ্ধ করে মাঠে থাকতে হবে। যারা মন্ত্রী এমপি আছেন ভাবছেন সব মানুষ আপনাদের। কিছু মানুষ আছে যারা আপনাদের পিছনে থেকে ইয়েস স্যার ইয়েস স্যার করে। এদরকেও চিহ্নিত করুণ। কারণ এদের দিয়ে আপনার জনপ্রিয়তা নির্ণয় করলে ভুল হবে। শেখ হাসিনা এবার নিজের সংগৃহিত তথ্য ও মাঠ যাচাই করে নোমিনেশন দেবে। 

অপরদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এই দলকে হুমকি-ধামকি দিয়ে কোন লাভ হবে না। আমরা একাত্তারে আলবদর রাজাকারদের পরাস্ত করেছি প্রয়োজন হলে আবার তাদেরকে পরাজিত করা হবে। আজ দুপুরে মেহেরপুরের মুজিবনগর আ¤্রকাননে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন। ঝিনেদাহ শৈলকুপা‘র বর্ষিয়ান নেতা ৫বার নির্বাচিত এমপি সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হাই সকালে বিশাল গাড়ি বহরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঝিনেদাহ থেকে মুজিবনগরের সমাবশে যোগ দেন। এ সময় প্রথমেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

আব্দুল হাই এমপি বলেন- প্রতিবারই প্রাণের টানে ১৭ এপ্রিল এলেই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মুজিবনগর ছুটে আসি। বঙ্গবন্ধু না থাকলে যেমন বাংলাদেশ হতো না। তেমনি মুজিবনগরের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সার্বভৌমত্ব পেতাম না। তাই বঙ্গবন্ধু এবং মুজিবনগর দুটিই স্বাধীনতার প্রাণ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সেই জাতীয় পতাকাকে কলঙ্কিত করতে আজও একটি শ্রেণী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই এই দেশকে এবং শেখ হাসিনার শাসনকে রক্ষা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা হতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সমর্থকরা ঐতিহাসিক মুজিবনগরে সমবেত হতে শুরু করে। প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ পায়ে হেঁটে আবার কেউ দলবদ্ধভাবে বাস যোগে আসে মুজিবনগর। কাঠফাটা রৌদ্দ মাথায় নিয়ে রমজান মাসে মুজিবভক্ত মানুষদের মুজিবনগরে এমন উপস্থিতি ছিল প্রচন্ড ভালবাসার লক্ষ্যণীয়।

সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন- প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত করে ওয়েব সাইটে দেয়া হয়ে গেছে। উপজেলা পর্যায়ে কিছু আপত্তি রযেছে। জুনের মধ্যে সেই সমস্ত আপত্তি নিস্পত্তি করে চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কাজ শেষ করা হবে। রাজাকারদের তালিকা প্রস্তুত করতে মহান সংসদে আইন পাশ করা হয়েছে। রাজাকার আলবদর আলশামস তালিকা প্রস্তুত করার জন্য সংসদীয় কমিটি কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন- একাত্তরে যারা দেশের স্বাধীনতা চাইনি তারা এখন আরও বেশি সংগঠিত। বর্তমান সরকারকে বিব্রত ও আমাদের মহান স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তারা অব্যহতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আজ সকালে মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর আ¤্রকাননে মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদেও এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিমের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সাম্প্রদায়িক সব অপশক্তি দমন করে রেখেছেন। তবে দেশী বিদেশী প্ররোচণায় তারা প্রায় সময়ই দেশের স্বাভাবিক অবস্থা বিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই সরকার, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধেও স্বপক্ষের শক্তির সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের  জবাবে তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই বাছাই করে ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এখন রাজাকারদের নামের তালিকা তৈরী করা হবে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে সেই কাজটি করার পথ খুলে গেছে।

অন্যদের মধ্যে সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মেহেরপুর-১ আসনের এমপি ফরহাদ হোসেন, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য পারভীন জাহান কল্পনা, গ্লোরিয়া ঝর্ণা এমপি ঝিনেদাহ শৈলকুপা আসনের এমপি আব্দুল হাই এমপি সহ চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন আসনের এমপি‘রা উপস্থিথ ছিলেন। সমাবশে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মেহেরপুর-১ আসনের এমপি ফরহাদ হোসেন বলেন- মুজিবনগর স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষদের ভালবাসার অস্তিত্বের অহঙ্কারের একটি দিন। এই দিনটির জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হতো না। তাই মুজিবনগর দিবসকে যারা পালন করে না, তারা স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না এবং এদেশকে ভালবাসে না।

মুজিবনগর দিবস পালনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পরে শেখ হাসিনা মঞ্চের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মন্ত্রী। এসময় পুলিশ, বিজিবি, আনছার সদস্যদেও গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, গালর্স গাইড, বিএনসিসি কুজকাওয়াজ প্রদর্শন করে। এই স্থানে বাংলাদেশ আনছার বাহিনী অর্কেস্টা দলের গীতিনাট্য জল, মাটি ও মানুষ প্রদর্শন করা হয়। যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস এবং পর্যায়ক্রমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে তা অধিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেন আনছার আর্কেস্টা দলের শিল্পিরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া, একাত্তরের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের গার্ড অব অনার প্রদান বাহিনীর প্রদান আব্দুল হান্নান, মেহেরপুর পুলিশ সুপার রাফিউল আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা তথা মুজিবনগর আ¤্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন রাষ্ট্রপতি। মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। যার মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাসের চির অম্লান হয়ে থাকবে মুজিবনগর। প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরের এই আম্রকাননে নানা আয়োজনের মাধ্যমে মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়।