মেহেরপুরে বাড়ছে কুকুরের উপদ্রব, অসুস্থ কুকুরের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ
টপ নিউজ মেহেরপুর

মেহেরপুরে বাড়ছে কুকুরের উপদ্রব, অসুস্থ কুকুরের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ

সবার সংবাদ প্রতিবেদক:

মেহেরপুর শহরে দিন দিন বাড়ছে বেওয়ারিশ ও অসুস্থ কুকুরের উপদ্রব। বিশেষ করে শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় অসংখ্য ক্ষুধার্ত ও অসুস্থ কুকুরের আনাগোনা। এর ফলে স্থানীয় মানুষ যেমন ভীত-সন্ত্রস্ত, তেমনি অসহ্য দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ ও পথচারিরা।

এছাড়াও রাত নামলেই মেহেরপুর শহরের প্রধান সড়ক, হোটেল বাজার, বড় বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় কখনও তিন-চারটি, কখনও আবার আট-দশটি কুকুর একত্র হয়ে খাবারের সন্ধানে রাস্তাজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেলে খাবারের খোঁজে কুকুরেরা ময়লার স্তূপে হানা দেয়। তাদের অনেকেই অসুস্থ, শরীরে ক্ষত ও ঘা নিয়ে হেঁটে বেড়ায় রাস্তায়। অসুস্থ কুকুরগুলোর শরীরে পচন ধরায় চারিপাশে ছড়াচ্ছে অসহ্য দুর্গন্ধ। ফলে পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে দোকানপাটের ক্রেতা-সবারই নাক চেপে চলতে হয়। আক্রান্ত স্থানগুলোতে পোকা ও মশা-মাছি বসার ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের ঝুঁকি।

রাত নামলেই মেহেরপুর শহরজুড়ে কুকুরের ভয় ও দুর্গন্ধের এক ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। অসুস্থ কুকুরের উপদ্রব রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শহরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে-এমন আশঙ্কাই করছে সচেতন মহল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এসব অসুস্থ কুকুরকে চিকিৎসার আওতায় আনা, টিকাদান নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘ্নে চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের জরুরি উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন বলেন, রাত ১১টার পর শহরের রাস্তায় হাঁটা মুশকিল। একসঙ্গে এত কুকুর ঘুরে বেড়ায় যে, মনে হয় পুরো শহরটা তাদের দখলে।

হোটেল বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী মোমিনুল বলেন, রাস্তায় অনেক কুকুর অসুস্থ অবস্থায় ঘোরাফেরা করছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে তা থেকে এমন দুর্গন্ধ বের হয় যে কুকুর পাশ দিয়ে গেলে যায় না দুর্গন্ধে টিকে থাকা মুশকিল। 

স্কুল ছাত্র সালমান ফারসী বলেন, স্কুলে যাওয়ার পথে একাধিক কুকুর দেখা যায়। অনেকের গায়ে ঘা, লোম ও চামড়া উঠে গেছে, দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। এগুলোর চিকিৎসা না হলে মানুষের জন্যও রোগ ছড়াতে পারে।

মেহেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন রাতে হাঁটতে বের হলে কুকুরের ঝাঁক আমাদের পিছু নেয়। কেউ ভয় পেয়ে দৌড়ালে তারা তাড়া করে। অনেক কুকুর চলন্ত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দিকে এমনভাবে তাড়া করে যা অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে।

মেহেরপুর পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিষয়টি জানি। তবে পশু নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ভেটেরিনারি টিমের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। বেওয়ারিশ ও অসুস্থ কুকুর নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই এদের চিকিৎসা ও টিকার আওতায় করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, বেওয়ারিশ ও অসুস্থ কুকুরের সংস্পর্শে গেলে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণেরও সচেতন হওয়া জরুরি।