মেহেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ?  কে হচ্ছেন, কপাল পুড়বে কার ?
টপ নিউজ সারাদেশ মেহেরপুর

মেহেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ? কে হচ্ছেন, কপাল পুড়বে কার ?

সবার সংবাদ ডেস্ক : 

কে হচ্ছেন মেহেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ? কপাল পুড়বে কার ? এমন প্রশ্ন এখন মেহেরপুর জেলার রাজনৈতিক মহলে। এখনই এর উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন হলেও নির্বাচনের জয় পরাজয় নিয়ে ভোটার এবং সাধারণ বোদ্ধা মহলে এনিয়ে জল্পনা কল্পনার অন্ত নাই। দেখা যাচ্ছে- জেলা পরিষদ নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের মত না হওয়ায় প্রতিটি স্থানে মিছিল মিটিং প্রচার প্রচারণার বহর নেই। ফলে কোথাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না নির্বাচন নিয়ে দৃশ্যমান টানটান উত্তেজনা। তাই অনেকটাই নীরবে চুপিসারে এগিয়ে চলছে এই নির্বাচন। তবে একটি জেলার নেতৃত্বদানকারী গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচনে কে ওই সম্মানের চেয়ারটির মালিক হবেন সেদিকে তাকিয়ে আছে সবাই।

মেহেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে এবার প্রার্থী হয়েছিলেন ৩ হেভিওয়েট নেতা। এই সংখ্যা বেশি হওয়ায় অবশেষে কোন প্রার্থী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিবেন, সর্বশেষ প্রার্থী তালিকায় কে কে টিকে থাকবেন নাকি দুইজন প্রার্থী প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে অবশেষে একজনই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতবেন এসব নিয়েও ছিল যোগ বিয়োগের হিসেবনিকেশ। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বি সকলেই আওয়ামীলীগ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। কিন্তু প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিন সব যোগবিয়োগের হিসাব চুকিয়ে দিতে অবশেষে মেহেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন। যদিও গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন- তাঁর সাবেক রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং প্রধানমন্ত্রী ও দলের জননেত্রীর দলীয় সিদ্বান্তকে বিবেচনায় নিয়ে এবং দলের সিদ্ধান্তের অবিচল থাকতে তিনি মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন।

ফলে, মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমানে দুইজন প্রার্থী লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি একজন হলেন- মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি তুখোর বক্তা আইনজীবি আব্দুস সালাম। অপরজন হলেন- মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের প্রবীণ নেতা মেহেরপুর সদর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি, জেলা পরিষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান সহ অসংখ্য সামাজিক ও ব্যবসায়িক সমিতির নেতা হাজী গোলাম রসুল। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে আব্দুস সালাম হলেন আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী এবং গোলাম রসুল হলেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এখন সীমিত ভোটারদের মন জয় করে কে অধিক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হবেন, কার গ্রহণযোগ্যতা ভোটারদের কাছে বেশি হবে সেটাই মুখ্য বিষয়। তবে, এবারের ভোটে ওই দুইটি দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে অর্থ বড় একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে কিনা সেটা নিয়েও রয়েছে জোর আলোচনা।

চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থী নির্বাচনে জিততে যেমন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন আবার ছুটে যাচ্ছেন ইউনিয়ন এবং পৌর পরিষদে, তেমনি ভোটাররাও কাকে ভোট দিবেন সেই সিদ্বান্ত নিতে দলবদ্ধভাবে বসছেন, দফায় দফায় আলোচনা করছেন। মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন উপজেলার ২০ ইউনিয়ন, দুই পৌরসভা এবং তিন উপজেলা পরিষদ মিলিয়ে মোট ভোটার ২৯৫ জন। এর মধ্যে আমদাহ ইউনিয়নের একজন সংরক্ষিত নারী সদস্য মারা যাওয়ায় এবারে ২৯৪ জন ভোটার নির্বাচনে ভোট দান করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে গোলাম রসুলের ব্যাক্তিগত ভোট রয়েছে। সেই তুলনায় আব্দুস সালামের ব্যাক্তিগত ভোট কম রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের জয় পরাজয়ে ব্যাক্তিগত ভোট খুব বেশি কাজে আসবে না বলছেন নির্বাচনের সাথে যুক্ত তৃণমূল নেতারা। কারণ ক্ষমতায় থাকাকালীন সুযোগ সুবিধা সব পেয়েছেন কেবলমাত্র নির্বাচিত সদস্যরা। এক্ষেত্রে ভোটররা বঞ্চিত হয়েছেন অনেকটাই। আগে ১৫ জন সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য ছিল ৫জন। সংখ্যার সেই আধিক্যতা কমিয়ে এবার নতুন নিয়মে প্রতিটি উপজেলা থেকে ১জন করে সাধারণ সদস্য নির্বাচিত হবেন। অন্যদিকে- সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচনে সংসদীয় আসন অনুপাতে দুই আসন থেকে ২জন নির্বাচিত হবেন। এই হিসাবে এবার সদস্য নির্বাচনটাও চেয়ারম্যান নির্বাচনের মত চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। এই নির্বাচনের হিসাবনিকাশ, পরিবেশ পরিস্থিতি জানতে আরও বিস্তারিত আয়োজন পরবর্তীতে....