সবার সংবাদ ডেস্ক:
জনপ্রশাসন মন্ত্রীত্ব পেয়ে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে মেহেরপুর। কারণ সরকারের অতীব গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী থেকে মেহেরপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি ফরহাদ কে এবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীত্ব দেওয়ায় খুশি মেহেরপুর। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সারাদিন মেহেরপুরে খন্ডখন্ড আনন্দ মিছিল করেছে। দলমত নির্বিশেষে উৎফুল্ল মানুষজন নেচে গেয়ে, উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে, একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠে।
মেহেরপুরের বিখ্যাত মিষ্টি বাসুদেব গ্র্যান্ড সন্স এবং গিয়াস মিষ্টান্ন ভান্ডার সহ সাধারণ মিষ্টির দোকানে মিষ্টি নিমিষেই ফুরিয়ে যায়। ১৬০ বছরের ঐতিহ্য বাসুদেব গ্র্যান্ড সন্স এর স্বত্ত্বাধিকারী বিকাশ চন্দ্র তেঁতুল জানান-শুক্রবার দুপুর না পেরুতেই দোকানের দুই মন মিষ্টি শেষ হয়ে যায়। পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাওয়ায় এলাকা আরও উন্নয়ন সমৃদ্ধ হবে এই আনন্দে সকলেই মিষ্টিমুখ করানোর আনন্দে মিষ্টি কিনছে বলে জানান।
গিয়াস মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী শহীদুল ইসলাম জানান-বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত দোকান থেকে পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাওয়ার আনন্দের ১৩ মন মিষ্টি বিক্রি হয়েছে। কারণ স্বাধীনতা পরবর্তী এই প্রথম ঐতিহাসিক মুজিবনগর মেহেরপুর থেকে কেউ পূর্ণ মন্ত্রী হলো। মেহেরপুর ছহিউদ্দিন ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসিন আলী আঙ্গুর বলেন- ফরহাদ হোসেন প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয় নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন। এবার সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হবে।
এরপর মুজিবনগর চেকপোষ্ট স্থলবন্দর এবং মুজিবনগরকে হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে আন্তজার্তিকমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মিউজিয়াম ও পর্যটন নগরী কাজ শুরু হবে। বেকারত্ব দূর হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। তাই জনপ্রশাসনের পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাওয়া এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক অন্য রকম আনন্দ। বুধবার রাত থেকেই মেহেরপুর পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের খবর পৌঁছুলে তখন থেকেই মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টিমুখ, উৎসব উল্লাস, ভুরিভোজ, গাড়ির হর্ণ বা ভেঁপু বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে রাস্তায় নামে মানুষজন।
পূর্ণ মন্ত্রীত্ব পাওয়ার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে স্যোসাল মিডিয়ায় “আলহামদুলিল্লাহ, শুকরিয়া, অভিনন্দন, শুভেচ্ছা, গর্বিত” বার্তা পোষ্ট মূহুর্তে ভাইরাল হয়ে ওঠে। তবে কোন মন্ত্রণালয় পাবে এনিয়ে বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল টান টান উত্তেজনা। জনপ্রশাসন মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রী, প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী কোনটার অধিকারী মেহেরপুর হবে তা নিয়ে মানুষের মধ্যে চরম আবেগ, উৎকণ্ঠা ছিল।
সব জল্পনাকল্পনা শেষে মেহেরপুর-১ আসন থেকে হ্যাট্রিক হওয়া এমপি ফরহাদ হোসেনকে সরকারের অতীব গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ঘোষণার পর আনন্দে ফেটে পড়ে মেহেরপুর। মেহেরপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম খোকন বলেন- দেশের রাষ্ট্রপ্রধান গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত শেখ হাসিনা এমপি। সেই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রধান হলেন মুজিবনগর মেহেরপুর-১ থেকে নির্বাচিত ফরহাদ হোসেন এমপি।
স্বাধীনতার সুতিকাগার ঐতিহাসিক মুজিবনগর কেন্দ্রীক মেহেরপুর। কিন্তু দলীয় সঙ্কীর্ণতার শিকার হয়ে এতদিন ঐতিহাসিক মুজিবনগর মেহেরপুর অবহেলিত ছিল। এই সরকার মুজিবনগরকে তার যথার্থ মূল্যায়ন দিচ্ছে। মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন-স্বাধীনতা, স্বাধীকার, ভাষা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সমৃদ্ধ ২০০ বছরের পুরনো অঞ্চল মেহেরপুর। এবারই প্রথম আমরা মন্ত্রীত্ব পাওয়ায় শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সুশীল সমাজ খুশি। এবার এই জেলায় সাংস্কৃতিক ডোম গড়ে তোলা হলে এই জেলার হারানো শিল্প সাহিত্য কৃষ্টি, ঐতিহ্য আবার সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
মেহেরপুর জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি পল্লব ভট্টাচার্য্য বলেন-সরকার মেহেরপুরকে পূর্ণ মন্ত্রীত্ব দেওয়ায় আজ মেহেরপুরের প্রতিটি পেশাজীবি সেক্টর ঐক্যবদ্ধ হয়ে মেহেরপুরকে এগিয়ে নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। এবার মুক্তিযুদ্ধেও চেতনায় আরও গতিশীল হবে প্রশাসন। এলাকায় ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত ফরহাদ হোসেনকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পেয়ে ঝিমিয়ে পড়া মেহেরপুর এখন উজ্জিবিত হয়ে উঠেছে। সকলেই স্বপ্ন দেখছে জঞ্জালমুক্ত একটি স্বচ্ছ সমৃদ্ধশালী মেহেরপুর গড়ার।







