পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
বাড়ি থেকে হাসি মুখে মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকা ডুবিতে লাশ হয়ে ফিরলেন একই পরিবারে ৪ জন সদস্য। এঘটনায় পর পুরো পরিবার সহ গ্রামটি শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
নদীর ওপারে মন্দির, মহালয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাই ভরসা নৌকা। তারা রানী ওরফে লিপি রানী (৩০) পরিবারের আরও তিনজনকে নিয়ে ওঠে বসেন নৌকায়। কিন্তু মন্দিরে পৌঁছানোতো দুরের কথা নদীই পার হতে পারেননি তারা। নৌকা নদীর মাঝ পথে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। ফলে নৌকার অন্যান্য যাত্রীদের মত একসঙ্গে প্রাণ যায় এক পরিবারের এই ৪ জনেরও।
লিপি রানীদের বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর এলাকায়। তিনি সেখানকার রবিন বর্মনের স্ত্রী। লিপি রানীর সঙ্গে ছিলেন- তার ৪ বছর বয়সি ছেলে বিষ্ণু বর্মন, রবিনের ছোট ভাই কার্তিক বর্মনের স্ত্রী লক্ষী রানী (২৫) এবং রবিনের ভাতিজা তিন বছর বয়সি শিশু দীপঙ্কর বর্মন।
রোববার রাতে উদ্ধার হওয়া ৪ জনের মরদেহের সৎকার করতে সোমবার সকালে শশ্মানে নিয়ে গেছেন পরিবারের লোকজন। একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ওই পরিবারে। স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক রবিন। ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন রবিনের ছোট ভাই বাবুল বর্মন।
বাবুল বর্মন বলেন, আমার তিনবছর বয়সি একমাত্র ছেলে দীপঙ্করকে আমার বৌদীদের সঙ্গে মন্দিরে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো সে লাশ হয়ে ফিরবে।
নিহত লিপির স্বামী রবিন বর্মন বলেন, স্ত্রী-সন্তানকে পাঠিয়েছিলাম মহালয়া অনুষ্ঠানে। কিন্তু নৌকাডুবিতে আমার সব শেষ হয়ে গেলো।
এর আগে, গতকাল রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ভোর থেকে পূণরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আরও ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোট ৪০টি মরদেহের বেশির ভাগই শিশু ও নারী এবং অধিকাংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপরপাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা নৌকা যোগে নদী পার হচ্ছিলেন। তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নদীর মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়। অনেকে সাঁতার জানায় তীরে আসতে পারলেও সাঁতার না জানা বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়। মনে করা হচ্ছে স্রোতের কারণে অনেক মরদেহ পানিতে ভেসে যেতে পারে।
এদিকে, ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।







