ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন জর্জা মেলোনি
আন্তর্জাতিক

ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন জর্জা মেলোনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন জর্জা মেলোনি। ধারণা করা হচ্ছে, তার ক্ষমতায় আরোহনের মাধ্যমে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে কট্টরপন্থী নেতা পেতে যাচ্ছে ইতালি। এতে নানা ইস্যুতে ইতালির নীতিগত ও অবস্থানগত অনেক পরিবর্তন আসতে পারে।

যদিও নির্বাচনে মোলোনি বলেছেন, তার দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি' সবার জন্য কাজ করবে এবং মানুষের ভরসার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। কিন্তু ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ইতালির সম্ভাব্য সে পরিবর্তনের প্রভাব হয়ত দেখা যাবে গোটা ইউরোপের ওপরই।

কারণ, নির্বাচনে দলটির প্রধান ইস্যু ছিল অভিবাসন। অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর জন্য তারা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মেলোনির জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোরও দাবি অভিবাসন কমানো এবং দেশটির উপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রভাব দুর্বল করা।

ইতালির বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সভাপতি নুর আলম সিদ্দিকী বাচ্চু অবশ্য মনে করেন, অভিবাসীদের প্রতি যত কঠোরই হোক, হয়ত তাদের সরাসরি দেশে ফেরত পাঠাবে না এই সরকার। নানা নিয়মকানুন করে হয়ত তাদের চাপে রাখা হবে।

সিদ্দিকীর আশঙ্কা, নতুন সরকার হয়ত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আইন করবে এবং তাদের অভিবাসী বিরোধী প্রচারণা যেভাবে চালাবে তাতে সমাজে 'বিদেশি বনাম ইতালিয়ান' একটি দূরত্ব তৈরি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

যেহেতু এদেশে বেকারত্ব এবং অপরাধের পেছনে ইমিগ্রেন্টদের কারণ বলে মনে করা হয়, সে কারণে নতুন সরকার এসে প্রথমে অনিয়মিত অভিবাসী শ্রমিক এবং অপরাধ ঠেকাতে বিধিনিষেধ দেবে। তারপর টার্গেট দেবে যেসব বিদেশি ১০ বছর ১৫ বছর কাজ করছে, তাদের ফেরত পাঠাও,’ বিবিসিকে বলেন তিনি।

অভিবাসীরা নানা হয়রানির শিকার হতে পারেন—এমন শঙ্কা প্রকাশ করে নূর আলম সিদ্দিকী বাচ্চু বলেন ‘রাজনৈতিকভাবে আমাদের (অভিবাসীদের) নিয়ে প্রচার চালিয়ে রেখে হয়ত কোণঠাসা করে রাখা হবে। যেন বেতনের ব্যাপারে আমরা কোনো কথা না বলতে পারি। আমাদের কায়িক শ্রমকে অল্প পয়সায় নেওয়ার জন্য আমাদের মানসিক চাপে রাখা হবে। হয়ত দেখা যাবে ডকুমেন্ট রিনিউ হচ্ছে না, এরকম নানা কিছু।

এসব চাপের মাধ্যমে নতুন অভিবাসীদের ইতালিতে নিরুৎসাহিত করা হবে— উল্লেখ করে সিদ্দিকী আরও জানান, সমুদ্রপথে ইতালিতে আসা অভিবাসীদের প্রবেশ মুখগুলোতে যেহেতু কড়াকড়ি হবে; তাই ওই প্রবেশ মুখগুলোতে বর্তমানে রেডক্রসের মত যেসব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করে, তাদের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে। ফলে সমুদ্রপথে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশী লোকজন দুর্ঘটনায় পড়লে তাদের প্রাণহানির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।

সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির উদ্যোগে এই অভিবাসীদের সুরক্ষা দিতে একটি নতুন আইন করা হয়, যার মাধ্যমে অভিবাসীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ ও বসবাসের অনুমতিপত্র—যাকে 'টেম্পোরারি রেসিডেন্সি' বলা হয়, দেওয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালেই।

নতুন সরকারের নীতির কারণে তার কাজের অনুমতিপত্র নবায়নে সমস্যা হতে পারে বলে আশংকা জানিয়ে বিবিসিকে সামিউল বলেন, টেম্পোরারি রেসিডেন্সির কারণে মনে একটা আশা সৃষ্টি হয়েছে যে ঠিকমত কাজ করলে এক সময় বৈধভাবে এখানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারবো। কিন্তু এখন কী হবে বুঝতেছি না।

এদিকে, নতুন কট্টর ডানপন্থী সরকারের অভিবাসন নীতিমালার পাশাপাশি মুসলমান বিরোধী মনোভাব রয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে। কারণ মেলোনি ইতিমধ্যেই একাধিকবার ইতালিতে মুসলিম অভিবাসীদের আগমনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

চাকরি নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি সামিউল ইসলামের আরেকটি ভীতি হচ্ছে মুসলমান হবার কারণে তিনি কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হতে পারেন।